Translate

অনলাইন আয় সম্পর্কে জানব বেকারত্ব দুর করব

গুগলে অনলাইন আয়ের সকল তথ্য ফ্রিতে পাওয়া যায়, তাই অনলাইন আয়ের সকল ট্রেনিং আপনি ইন্টারনেট থেকে ফ্রি শিখতে পারেন।Odesk, Elance এ প্রোফাইল ১০০% বা সামান্য ফিতে Test পাশে সহায়তা দিই

আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধি আনব

অতিরিক্ত জনসংখ্যা এখন আর কোন অভিশাপ নয়, সঠিক ব্যবহারে এ জনসম্পদ দক্ষ মানবশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশকে মধ্য আয় থেকে উচ্চ আয়ের দেশে রূপান্তর করতে পারে।

আধুনিক যুগে বেকারত্ব লজ্জার ব্যাপার

বেকারত্বকে না বলি ! আপনার যদি একটি পিসি ও ইন্টারনেট লাইন থাকে, আর পিসি সর্ম্পকে ধারনা থাকে, তবে সামান্য ট্রেনিং নিয়ে আপনি নিজকে প্রস্তুুত করে আয় শুরু করতে পারেন।

বেকারত্ব দুরীকরনে অনলাইন আয়ের বিকল্প নাই

সময় এসেছে অজানা ওয়েব দুনিয়া জানার ও বুঝায়, ফেসবুক বা্ ইউটিউবে সময় অপচয় না করে সোস্যাল সাইট গুলির সাফল্য নিজের ঘরে তুলি ।সময় অপব্যয় নয় মিতব্যায়িরা কাঙ্খিত সাফল্য পেতে পারে।

শিক্ষার শেষ নাই, তাই, জানার চেষ্টা আসলেই কি বৃথা

যদি অনলাইন আয়ে আগ্রহী তাহলে SEO, Date Entry বা Graphics etc জানুন, প্রয়োজনে নামেমাত্র সামান্য ফিতে আমাদের সহযোগীতা/টিউটোরিয়াল / ভিডিও টিউটোরিয়াল সহায়তা নিতে যোগাযোগ করুন।

Showing posts with label ভেজাল খাবার. Show all posts
Showing posts with label ভেজাল খাবার. Show all posts

Sunday, November 3, 2013

হুমকিতে জনস্বাস্থ্য - ইট কাঠ ও কেমিকেল রং দিয়ে তৈরি হচ্ছে মসলা,


হুমকিতে জনস্বাস্থ্য - ইট,কাঠ ও কেমিকেল রং দিয়ে তৈরি হচ্ছে মসলা


খাবারের স্বাদ বাড়াতে যে মসলা ব্যবহৃত হয়, তা-ই এখন স্বাদবর্ধকের পরিবর্তে জনস্বাস্থ্যের হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিক মুনাফার জন্য একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী মসলায় কাপড়ের বিষাক্ত রং, দুর্গন্ধযুক্ত পটকা মরিচের গুঁড়া, ধানের তুষ, ইট ও কাঠের গুঁড়া, মটর ডাল, সুজি ইত্যাদি মেশাচ্ছেন। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ও কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এ তথ্য।

রাজধানীতে বিষয়টি নজরদারির দায়িত্ব বিএসটিআইয়ের। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে তাও নেই। ফলে সেখানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল মসলা। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএসটিআইয়ের লোক-দেখানো অভিযানে সামান্য জরিমানা করা হলেও কিছুদিন পর ব্যবসায়ীরা কৌশল পাল্টে আবারও শুরু করেন ভেজাল মসলা উৎপাদন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ভেজাল মসলা কিনে ক্রেতারা শুধু প্রতারিতই হচ্ছেন না, এতে তৈরি হচ্ছে মারাত্দক স্বাস্থ্যঝুঁকি। কারণ ভেজাল মসলায় মেশানো ক্ষতিকর খাদ্যদ্রব্য ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। অনুসন্ধানে জানা যায়, গুঁড়ামরিচের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে ইটের গুঁড়া। হলুদে দেওয়া হচ্ছে মটর ডাল, ধনিয়ায় স'মিলের কাঠের গুঁড়া ও পোস্তদানায় সুজি। মসলার রং আকর্ষণীয় করতে বিশেষ ধরনের মেশানো হচ্ছে কেমিক্যাল। আর এ কারণে গুঁড়ামরিচের ঝাল বাড়ে আর গুঁড়া হলুদের রং আরও গাঢ় হয়। মসলার ওজন বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয় ধানের ভুসি। অভিযান পরিচালনাকারীরা জানান, তারা মসলা উৎপাদনকারী কারখানাগুলোতে অভিযানের সময় ধানের তুষের বস্তা পান। এ ব্যাপারে বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা জানান, মূলত রাজধানীর বিভিন্ন মিলমালিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কৌশলে মসলায় বিষাক্ত খাদ্যদ্রব্য মেশানো হচ্ছে। সাধারণত এ অসাধু চক্র প্রথমে গোপন কারখানায় ভেজাল মসলা উৎপাদন করে। পরে তা প্যাকেটজাত করে খোলাবাজারে সরবরাহ করে থাকে। সাধারণত উৎপাদনকারীরা ভেজাল মসলা সরবরাহ করে থাকেন তিনভাবে। তারা কিছু প্যাকেট ছাড়া, কিছু সাধারণ প্যাকেটে এবং কিছু নামিদামি কোম্পানির লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করেন। কিছু ক্ষেত্রে ভেজালকারীরা বিএসটিআইয়ের অনুমোদিত নকল স্টিকার লাগিয়ে তা বাজারজাত করে থাকেন। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় এক হাজারের বেশি গুঁড়া মসলার মিল রয়েছে। আর এসব মিলের অধিকাংশেই মেশানো হচ্ছে ভেজাল দ্রব্য। রাজধানীর শ্যামবাজার, কারওয়ান বাজার, মৌলভীবাজার, টঙ্গী ও মিরপুর এলাকার বিভিন্ন পাইকারি বাজার এবং মসলা ভাঙানোর কারখানায় এসব ভেজাল মেশানো হচ্ছে। তবে হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভেজাল মসলা মেশানোর হার বেশি। শুধু ছোট কোম্পানি নয়, ভেজাল ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে স্বনামধন্য বড় মসলার কোম্পানিগুলো। এ ধরনের বড় কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ, শুধু লোভনীয় প্যাকেট আর বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা ক্রেতাদের ঠকিয়ে কয়েক গুণ বেশি দাম আদায় করছে। রাঁধুনি, প্রাণসহ নামি ব্র্যান্ডেও মিলছে ভেজাল। সম্প্রতি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় সিসা পাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা প্রাণের গুঁড়া হলুদ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষায় এশিয়া   থেকে আমদানিকৃত মসলায় ব্যাকটেরিয়া ও মৃত পোকামাকড়ের দেহাবশেষ পেয়েছে


 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলা বলেন, মসলায় ব্যবহৃত কাপড়ের রং শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর কারণে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া এর মাধ্যমে মানবদেহে হেপাটাইটিস, কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভেজাল মসলা নিয়ন্ত্রণের বা নজরদারির দায়িত্ব বিএসটিআইয়ের। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অনুমোদনহীন যেসব প্রতিষ্ঠান ভেজাল মসলা তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ নেওয়া হচ্ছে অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা। এ ব্যাপারে বিএসটিআইর পরিচালক কমলপ্রসাদ দাস বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, 'অভিযানের সময় মসলাসহ সব ধরনের খাদ্যপণ্যের প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। ঢাকা ও বাইরের জেলাগুলোতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের চাহিদার ভিত্তিতে আমরা সপ্তাহে পাঁচ দিন ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি।
সূত্র - বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Tuesday, July 23, 2013

যে ফল খাচ্ছেন তাতে বিষ নেই ?

- সাবধান ফলে বিষ - 
 যে ফল আপনি  খাচ্ছেন বা বাচ্চাকে দিচ্ছেন,
               তা কি নিরাপদ,
 তাতে কোনে বিষ বা ফরমালিন নেই ? 

বাজারে বাহারি মৌসুমি ফল। নজরকাড়া রং। টকটকে লাল কিংবা গাঢ় হলুদ। মৌ মৌ গন্ধ।  চোখ জুড়িয়ে যায়। রমজানে এসব ফলের কদর বেশি। বেশি দাম দিয়েও কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। তবে এই ফল গাছ পাকা ফল নয়। এ ফলে মাছি কিংবা মৌমাছি কোনোটাই বসতে দেখা যায় না। চোখে পড়ে না, দেখা মেলে না পিঁপড়ারও। এর কারণ এসব ফলে কার্বাইড ও ফরমালিন মেশানো আছে। কেমিক্যালের নামে বিষ মিশিয়ে এই ফল বিক্রি হচ্ছে সারাদেশের শহর, বন্দর, গ্রাম, গঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। শুধুমাত্র ফলের পচন এড়াতে মেশানো হচ্ছে মানবদেহে ক্যান্সারবাহী এই বিষাক্ত কেমিক্যাল। আর বিষ মেশানো এসব ফল খাচেছ দেশের কয়েক কোটি মানুষ। প্রশাসন, আইনশৃংখলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তাব্যক্তিদের সামনেই চলছে এই বিষ মেশানোর কাজ। কিন্তু কারোরই নেই সেদিকে নজর। এছাড়া যারা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন তারাও এই বিষ খাচ্ছেন। তারপরও নেয়া হচ্ছে না কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের দু’একটা অভিযান দেখা গেলেও তা শুধুমাত্র লোক দেখানো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য দ্রব্যে রাসায়নিক এই পদার্থ (বিষ) ব্যবহারে ক্যান্সার, প্যারালাইসিস, কিডনির রোগ, লিভার সিরোসিস এবং নানা মরণব্যাধিতে আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে ভেজাল এই ফলমূল খেয়ে দিন দিন শিশুদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া গর্ভবতী মেয়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে, প্রতিবন্ধী শিশুরও জন্ম হতে পারে। এ  থেকে প্রতিকার পেতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। বাজারে ফল-মূল দেখে-শুনে কিনতে হবে।
সরকার গত বছর ফরমালিন আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করলেও ফরমালিন নামের বিষের ভয়াবহতা কমেনি। এর আগেও হাইকোর্ট থেকে এ বিষয়ে কয়েকদফা নির্দেশনা থাকলেও কোন কাজ হয়নি। এদিকে গত ১ জুলাই মন্ত্রীপরিষদের সভায় ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’ এর খসড়ায় খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মেশানোর দায়ে সাত বছর কারাদ-ের বিধান রেখে আইন করার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে সাজার মেয়াদ বেড়ে দ্বিগুণ হবে, অর্থাৎ ১৪ বছর। যদিও এই আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে অনেকে সন্দিহান। 
এক সময়ে ভেজালবিরোধী অভিযানে সাড়া জাগানো ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলা সচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জনসচেতনতা মূলত সৃষ্টি করেছে দেশের গণমাধ্যম। মিডিয়ার কারণেই মানুষ সচেতন হয়েছে। এর পেছনে মিডিয়ার অবদানের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। তাহলে মানুষ আরো সচেতন হবে। পাশাপশি জনগণকে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে সহযোগিতা করতে হবে। ভেজালবিরোধী অভিযান ঝিমিয়ে পড়া সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশ, জনগণ ও জাতির স্বার্থে ভেজালবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
র‌্যাবের মেজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, আইন আছে। অপরাধ করলে আমরা সাজা দেই। কিন্তু এভাবে চলতে পারে না। অপরাধ করার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তাই বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে এসিডের মতো ‘খাদ্যে রাসয়নিকদ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন’ তৈরির বিষয়ে কথা হয়েছে। এটা হলে ফরমালিন, ক্যালসিয়াম কাবাইড, ডিডিটি, হাইড্রোজ, টেক্্রটাইল রং এর উৎপাদন, আমদানি, ক্রয়, বিক্রয় ও মজুদ করলেই ব্যবস্থা। এ আইন হওয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, বাজারে যাতে এসব ফরমালিন সহজলভ্য না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। প্রিভেনটিভ অ্যাকশন নিতে হবে।  
ক্যাব সভাপতি কাজী ফারুক বলেন, এ দেশে আদালতের যে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা, তা এড়াতেই ভোক্তারা মামলার ঝামেলায় যেতে চায় না। বর্তমানে মোবাইল কোর্ট আইনের প্রয়োগের কারণে কিছুটা অগ্রগতি ঘটলেও জনসচেতনতা তৈরিতে আরো সময় লাগবে। একই সঙ্গে আমলাতন্ত্রের একটি অংশ ফরমালিন ব্যবহারের পক্ষে ভূমিকা রাখছেন বলেও উল্লেখ করেন।
সূত্র মতে, ফল পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড (বিষ) মেশানো হয়ে থাকে আর আকর্ষণীয় করতে ব্যবহার করা হয় রাসায়নিক রং। পরে জনসাধারণের অজান্তেই তা বাজারজাত করা হচ্ছে। আম পাকার পর পচন রোধকল্পে নিয়মিত ফর্মালিন স্প্রে করে বিক্রি করছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী।
পল্টন বায়তুল মোকাররমের উল্টো পাশের ব্যবসায়ী কামাল জানান, ফলে ফরমালিন আছে কিনা বলতে পারব না। আমরা আড়ৎ থেকে আনি, তারা ভালো বলতে পারবেন। ব্যবসায়ী রতন জানান, রাজশাহী থেকে আম আসতে ধাপে ধাপে বিক্রি পর্যন্ত সপ্তাহ চলে যায়, তাই টিকিয়ে রাখতে অনেক সময় মেডিসিন দেয়া হতে পারে। শুধু আম নয়; এই তালিকায় আছে আনারস, কাঁঠালসহ কয়েক ধরনের মৌসুমি ফল। অনেকেই না জেনে পকেটের টাকা খরচ করে প্রিয় মানুষদের নিয়ে যাচ্ছেন এই বিষ!
রোজায় বড় একটি চাপ পড়ে ফলের ওপর। আম, জাম, কাঁঠাল, আনারস, কলা, আপেল, মালটা এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। কেমিক্যালমুক্ত আম বলে অনেক স্থানে ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু শহরের অধিকাংশ দোকানে বিক্রি হচ্ছে রাসায়নিক কেমিক্যাল মিশ্রিত ফল। কেমিক্যাল ব্যবহার করে দ্রুত পাকিয়ে এসব পণ্য বাজারে ছাড়া হচ্ছে।
রমজান উপলক্ষ্যে গত কয়েক দিনে বিএসটিআই’র ভেজালবিরোধী অভিযানে এর সত্যতা মিলেছে। রাজধানীর যে দোকানে যাওয়া হয়েছে, সেখানেই মিলেছে বিষ মেশানো ফলের সন্ধান। ঢাকার সবচেয়ে বড় আড়ত পুরান ঢাকার বাদামতলী থেকে শুরু করে যাত্রাবাড়ী, মিরপুর শাহ আলী- সবখানে একই চিত্র। এমনকি নামিদামি অভিজাত সুপার শপের ফলেও পাওয়া যাচ্ছে বিষাক্ত ফরমালিন। গুলশান, ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকার দোকানে সাজানো ফলে পাওয়া গেছে ফরমালিন ও কার্বাইড। তা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে রাস্তায়। এভাবে মাঝে মাঝে নষ্ট করা হয় টনকে টন ফল। কিন্তু অভিযানে ধারাবাহিকতা না থাকায় এবং এ বিষয়ক আইন দুর্বল হওয়ায় বিষমেশানো ফল বিক্রেতা চক্র বহাল বতিয়তে এ কুকর্ম করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তারা লোকবলের অভাবের দোহাই দিয়ে পাশ কাটিয়ে যান।
মালিবাগে ফল কিনতে আসা গৃহিণী তানিয়া আক্তার বলেন, ফলে ফরমালিন থাকবে এ আর নতুন কি? জেনে শুনেই বাৎসরিক এ মৌসুমি ফলের নামে বিষ কিনে নিয়ে যাচ্ছি। ভালো ফল পাওয়ার নির্ভরতা কোথায়? তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোনো আইন বা উদ্যোগ ফরমালিন বন্ধ করতে পারছে না। সাজানো গোছানো মৌসুমি ফলের নামে বিষ বিক্রি হচ্ছে। আমরা বাধ্য হয়ে এ ফল কিনছি, তাও আবার চড়া দামে। এ ক্ষেত্রে সরকারের যেন কিছুই করার নেই। আর আইন হলেও তাতো আর দেশে বাস্তবায়ন হয় না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত এক বুলেটিনে ফরমালিন মেশানো ফল খেয়ে মানবদেহে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার এ ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে শুধু ফল নয় কাচা শাকসবজিতে ফরমালিন  মেশানোর কথা বলা হয়েছে। এক কথায় এখন রাসায়নিকদ্রব্য মিশ্রিত ছাড়া কোনো ফল বা তরিতরকারি বাজারে নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুচরা বাজার তদারক করে ফলে ফরমালিন মেশানো রোধ সম্ভব হবে না। বরং আমদানিকারকরা ফল দেশে আনার পর যে জায়গা থেকে সরবরাহ করে সেখানেই জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
বাজারে আম, কলা, আপেল, আঙ্গুর, নাশপাতি, কমলালেবুতে ফরমালিন মেশানো হয়। এতে অসাধু ব্যবসায়ীদের অধিক মুনাফা আসছে। কিন্তু ফলের গুণ নষ্ট হচ্ছে এবং প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে দেহে। দেখা গেছে, দেশের বাইরে থেকে আসা বেশির ভাগ ফল ঘরে রাখলে সহজে নষ্ট হয় না বা পচে না, অনেক দিন একই রকম থাকে। ঘরে থাকলে দেশি ফল যেখানে দুই থেকে চার দিনের মধ্যে নষ্ট হয় সেখানে মাস চলে গেলেও আমদানি করা ফল নষ্ট হচ্ছে না! এর কারণ উদঘাটন করতে গিয়ে জানা যায় আঙ্গুর, আপেল, নাশপাতি, কমলালেবু ইত্যাদি আমদানি করা ফলে মেশানো হচ্ছে ফরমালিন। কার্বাইডে পাকানো ফলে আসল স্বাদ যেমন পাওয়া যায় না তেমন উপকারের বদলে উল্টো দেখা দেয় রোগব্যাধি।
জানা যায়, ফরমালিন আর্সেনিকের চেয়েও ক্ষতিকারক। এতে লিভারের সমস্যাসহ ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফরমালিন হচ্ছে এক ধরনের জৈব এসিড। এই এসিড মানবদেহে বড় ধরনের ক্ষতি করে। বাদামতলীর বিসমিল্লাহ ফলের আড়তের মালিক সোহরাব জানান, দেশে বেশির ভাগ ফল আসে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ব্রাজিল, পাকিস্তান, ভারত ও মিসর থেকে। এসব দেশ থেকে কন্টেইনারে করে সাগর ও নদীপথে তা আনা হয় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে। সেখান থেকে ঢাকার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নেয়া হয়। দেশের বাইরে থেকে আসা ফল সাধারণ মানুষের কাছে যেতে দেড় থেকে দুই মাস সময় দরকার হয়। আর আমেরিকা থেকে ফল আনতে সবচেয় বেশি সময় লাগে। সেখানে জাহাজে বোঝাই করার পর দেশে আসতে সময় লাগে ৪৫ দিন। কন্টেইনারে আনার কারণে তখন এগুলোতে কিছু দেয়ার প্রয়োজন হয় না। কন্টেইনারে সাজানোর পর তা ঠা-া রাখার ব্যবস্থা করা হয়। কন্টেইনারে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে না। তাই ফরমালিন দেয়ার প্রয়োজন হয় না। কন্টেইনার থেকে বের করে খোলা অবস্থায় রাখলে এসব ফল ২ থেকে ৩ দিনের বেশি থাকে না। যে কারণে অনেক সময় ফরমালিন মিশ্রিত পানির মধ্যে চুবিয়ে কার্টুনে ভরে তা বাজারজাত করতে হয়।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিন-২০১১ এ ভেজাল পণ্যের এক তথ্য প্রকাশিত হয়। এতে মহাখালী জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত রাজধানীসহ সারা দেশ থেকে পাঠানো নমুনা পণ্য পরীক্ষা করে দেখা যায়, ভোগপণ্যের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ শতকরা ৪৮ ভাগই ভেজাল। ২০১০ সালে ভেজাল নমুনার শতকরা হার ছিল ৫২ ভাগ। এ সময় ল্যাবরেটরিতে মোট ৫৩ হাজার ৪২টি খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২৫ হাজার ১৫৭টিই ছিল ভেজাল।
নগরীতে বিক্রি হওয়া আমের শতকরা ৯৪ ভাগই ফরমালিনযুক্ত। শুধু আম কেন? জাম ও লিচুতেও ফরমালিনের উপস্থিতি শতভাগ। এছাড়া মালটা, আপেল, আঙুর, কমলা, টমেটো, তরল দুধ ও মাছেও ফরমালিনের উপস্থিতি রয়েছে। একটি বেসরকারি পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পরিবেশ বাঁচাও’ আন্দোলনের সরেজমিন প্রতিবেদনে ওঠে এসছে এসব ভীতিকর তথ্য।
বিএসটিআই জানিয়েছে, জনবল সঙ্কটের কারণে তাদের অভিযান চালানোয় সমস্যা হচ্ছে। ২-৩ জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ১০-১২ জনের কাজ করা সহজ নয়। আগামীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বাড়াতে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল বলেন, ফরমালিনের কারণে লিভারে হেপাটাইটিস ও লিভার পচন বা সিরোসিস হতে পারে। এ ছাড়া অ্যালার্জিক সমস্যা হতে পারে। কার্বাইড মেশানো ফল খেলে বাচ্চা ও গর্ভবতী মায়েদের বেশি ক্ষতি হয়।
আমাদের সকলকে এ প্রতারনা, অনিয়ম ও খাদ্য দুষন/ খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আর এতে অবহেলার মানে আমাদের নিজেদের ও ভবিষ্যত প্রজম্মকে ধ্বংস করা।
হাসান সোহেল : দৈনিক ইনকিলাব

Saturday, April 13, 2013

ফল ভেজাল কারবারিদের পোয়াবারো

রাজনৈতিক অস্থিরতায় ফল ভেজাল কারবারিদের পোয়াবারো
স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক ইনকিলাব : রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভেজাল কারবারীদের পোয়াবারো। একদিকে, ভেজালবিরোধী অভিযান স্থবির। অন্যদিকে, র‌্যাব পুলিশ ব্যস্ত রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবেলা করতে। সব মিলে ভেজাল কারবারীদের অপকর্ম দেখার যেনো কেউ নেই। ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়া গেলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ পাওয়া যাচ্ছে না বলেই অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে। বিএসটিআই’র একজন কর্মকর্তা জানান, এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য শুক্র ও শনিবারে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। পরে সেটাও বাস্তবায়ন করা যায় নি। এ অবস্থায় ভেজালের দাপটে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। আসছে মৌসুমে ফরমালিনসহ বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত ফলে বাজার ছেয়ে যাবে সে আতঙ্ক রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ইতোমধ্যে কেমিক্যাল মিশ্রিত দেশি তরমুজে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। বাজারে উঠেছে কেমিক্যাল মিশ্রিত ভারতের আম। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সেগুলো। বিএসটিআই’র একজন কর্মকর্তা জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে রাজধানীতে ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করা হবে। শনিবার থেকে অভিযান শুরু হতে পারে বলে তিনি আভাস দিয়েছেন।  
প্রতি বছরই ভেজালবিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। কিন্তু ভেজালকারীরা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। গত কয়েক বছরে ঢাকা ও ঢাকার বাইরেও ভেজাল সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা খোঁজ খবর রাখছেন কবে থেকে অভিযান পরিচালিত হয়।  ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফলে ভেজাল দেয়ার মতো জঘন্য কাজটি যারা করেন তারা সবাই এর আগে কোন না কোনভাবে ভেজালবিরোধী অভিযানে ধরা পড়েছেন। জেল খেটেছেন, জরিমানা দিয়েছেন। দীর্ঘদির ধরে যারা এ কাজটি করছেন তাদের সবাই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। ভেজাল কারবারী করে কেউ কেউ এখন কোটিপতি। ভেজালবিরোধী অভিযান টিমের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতি বছরই মৌসুম এলে ভেজালবিরোধী অভিযানে ঘুরে ফিরে তারাই ধরা পড়ে যারা আগেও ধরা পড়েছে, জরিমানা দিয়েছে অথবা জেল খেটেছে। এজন্য ভেজালবিরোধী আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়া উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, তা না হলে এভাবে অভিযান চলতে থাকবে, পাশাপাশি অপরাধীরাও অপরাধ করেই যাবে। জানা গেছে, ভেজালকারবারী করে যারা আলোচিত তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, বাদামতলীর সাধন বাবু, নারায়ণ, টিটু, রাজ্জাক, কাল্লু, করিম হাজী, দিলু চেয়ারম্যান, তোতলা বাবুল, মিন্টু, শওকতসহ অনেকেই। ওয়াইজঘাটের জাহাঙ্গীর, সুমন, দেলোয়ার, হালিম ও এমদাদুল। যাত্রাবাড়ীর মোক্তার, মান্নান, বাবুল, আমীর, খোকন, চান্দু বাবুল, আলমসহ বেশ কয়েকজন। জোট সরকারের আমলে ম্যাজিস্ট্রেট রোকন-উদ-দৌলার নেতৃত্বাধীন মোবাইল কোর্ট যাত্রাবাড়ীর মোক্তারের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে কেমিক্যাল মিশ্রিত ৪শ’ মণ আম ও ৫০ কেজি ক্যালসিয়াম কার্বাইড উদ্ধার করেছিল। সেই মোক্তার এবারও সক্রিয়। ভোজলবিরোধী অভিযানের জন্য দেশের সবচে আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট রোকন-উদ-দৌলা। তিনিই প্রথম এ অভিযান শুরু করে দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা পরিচিত লাভ করেন। বর্তমানে তিনি রাজউকের ম্যাজিস্ট্রেট। রোকন-উদ-দৌলার পর ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে জনপ্রিয়তা পান ঢাকা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল-আমীন। বর্তমানে তিনি দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এই দুজনের পরে কেউই আর ভেজালবিরোধী অভিযান সেভাবে জোরদার করতে পারেন নি। আলাপকালে কয়েকজন ক্রেতা জানান, ফলের মৌসুম এলেই তারা কেমিক্যাল আতঙ্কে ভোগেন। কেমিক্যাল মিশ্রিত ফল কিনতেও ইচ্ছা করে না, আবার না কিনেও উপায় নেই। এজন্য তারা ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করার দাবি জানান।
সংগৃহীত - দৈনিক ইনকিলাব,
রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০১৩

Friday, March 15, 2013

ন্যায়বিচার চাই - ভোক্তার জন্য

ভোক্তার জন্য ন্যায়বিচার চাই

১৯৬২ সালের ১৫ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেনেডির উদ্যোগে উত্থাপিত চারটি ভোক্তা অধিকার সংবলিত ঐতিহাসিক বিল মার্কিন কংগ্রেস অনুমোদনের ফলে ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের আনুষ্ঠানিক ও আইনানুগ যাত্রা শুরু হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় দেশে দেশে কোটি কোটি ভোক্তা তাদের স্বার্থের পরিপন্থী কার্যকলাপ প্রতিরোধ করছেন এবং ক্রেতা-ভোক্তাদের সংগঠন গড়ে তুলছেন। ১৯৬০ সালের এপ্রিল মাসে হেগে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশের ভোক্তা সংগঠনের আয়োজিত সভায় ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব কনজুমারস ইউনিয়ন (আইওসিইউ) গঠিত হয়েছিল। পরে এর নাম হয় কনজুমারস ইন্টারন্যাশনাল (সিআই)। ১৯৮৩ সাল থেকে সিআই-এর আহ্বানে প্রতি বছর ১৫ মার্চ বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্যÑ ‘এখনই ভোক্তার জন্য ন্যায়বিচার চাই’।


আমাদের দেশে সত্তরের দশকে ভোক্তা আন্দোলন শুরু করার চার দশক পর ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন পাস হয়। এ আইনে ২০ ধরনের অপরাধের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইনের ৫৪ ধারায় মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করার দণ্ড : কোনো ব্যক্তি, কোনো ব্যবসায়ী বা সেবা প্রদানকারীকে হয়রানি বা জনসমক্ষে হেয় বা বা ব্যবসায়িক ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করলে ওই ব্যক্তি অনূর্ধ্ব তিন বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ৫০ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কোনো পণ্যের নকল প্রস্তুত বা উৎপাদন করলে তিনি অনূর্ধ্ব তিন বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
একজন নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদক ও বাজারজাতকারী জঘন্য সন্ত্রাসীর চেয়েও মারাত্মক। অনেক লোকের প্রাণহানি নীরবে ঘটিয়ে শাস্তি পাবেন তিন বছর জেল ও দুই লাখ টাকা জরিমানা। আর একজন সাধারণ ভোক্তা কারো অপব্যবসায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তা প্রমাণে ব্যর্থ হলে ব্যবসায়ীর মামলায় নিজেই শাস্তি ভোগ করবেন তিন বছর জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। এটা কি ন্যায়বিচার? কোর্ট-কাচারিতে একটি অভিযোগ দায়ের করে তা প্রমাণ করা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর। এ জন্য যে মানের আইনজীবী প্রয়োজন তা সাধারণ ভোক্তার নাগালের বাইরে। ফলে আইনগত বাধ্যবাধকতার ভয়ে ভোক্তা পণ্য কিনে ঠকলে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের না করাই শ্রেয় মনে করেন। অর্থাৎ, ভোক্তা আইনে সাধারণ মানুষের অভিযোগ দায়ের ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের (আইপিএইচ) অধীনস্থ ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, দেশের মানুষ প্রতিদিন যে মাছ, গোশত, দুধ, ফল, চাল, ডাল, তেল, মসলা ও লবণ খাচ্ছে এর শতকরা ৪০-৫৪ ভাগই ভেজাল। এসব খাদ্যে বিভিন্ন কীটনাশক, ভারী ধাতু, সিসা, আর্সেনিক ও স্টেফাইলোকক্কাসের মতো ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে।
ফল পাকাতে ব্যাপকভাবে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ইথেফেন এবং সতেজ রাখতে ফরমালিন ব্যবহার করা হচ্ছে। চিকিৎসা ও পুষ্টিবিদেরা বলেন, এগুলোর প্রভাবে শিশুর ডায়রিয়া থেকে শুরু করে ফুসফুসের সংক্রমণ, কিডনি ও লিভার পচে যাওয়া, রক্ত সরবরাহ বিঘিœত হওয়া, এমনকি অন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, ইথেফেনের কারণে ২০-৩০ শতাংশ এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইডের কারণে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় ফলের পুষ্টিমান। জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ২০১০ সালে পাঁচ হাজার ৭৫৯টি খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা করে ভেজাল পেয়েছিল দুই হাজার ৯৯০টিতে। গত জানুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠানটি ৩৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৮৭টি ভেজাল পায়। ডিম ও মাছ উৎপাদনে ট্যানারির বর্জ্যজাত খাদ্য ব্যবহার করে মানবস্বাস্থ্য বিষিয়ে তোলা হচ্ছে। লবণ ও মুড়ি সাদা করতে হাইড্রোজ ও ইউরিয়ার অপব্যবহার চলছে। ইরি-২৮ চাল অটোরাইস মিলে কেটেছেঁটে নাজির শাইল ও মিনিকেট বানানোর বাহারি কৌশলের ফাঁদে দেশের মানুষ। তদুপরি, অতিরিক্ত দাম দিয়ে এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অভিযোগে ৬২টি কোম্পানির তৈরী ওষুধ পরীক্ষার জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর কাজ করছে। কমিটির সভায় নি¤œ মানের ওষুধ তৈরির কারণে যে নয়টি প্রতিষ্ঠানের সনদ বাতিল হয়েছিল, তারা উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ওষুধ সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হিসেবেও সংসদীয় কমিটি চিহ্নিত করেছে।
এ দিকে, মালিকদের সিদ্ধান্তে বাসভাড়া বেড়েছে। সরকার তবুও ব্যবস্থা নেয়নি। আইন অনুযায়ী, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ এবং মালিক পক্ষের মধ্যে আলোচনাসাপেক্ষে সরকারি উচ্চমহল ভাড়া নির্ধারণ এবং এসআরো জারির মাধ্যমে সরকার তা বাস্তবায়ন করে থাকে। সম্প্রতি মালিকেরা সরকারকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে বেশি ভাড়া আদায় করে চলেছেন যাত্রীদের জিম্মি করে।
বছর ঘুরে আসার দু-এক মাস আগেই বাড়িওয়ালারা বাড়িভাড়া ৫০০ থেকে দুই-তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিতে শুরু করেন। ১৯৯১ সালে প্রণীত বাড়িভাড়া আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই।
শিক্ষার ক্ষেত্রেও সরকারি নীতি কার্যকর হচ্ছে না। শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রে কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ। শিক্ষার বৈষম্য, কোচিংবাণিজ্য বন্ধ করা আর নোট ও গাইড বইয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বইয়ের সংখ্যা শিশু-কিশোরদের ধারণক্ষমতার বেশি। এতে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের গৃহশিক্ষক ও কোচিংমুখিতা বেড়েছে। শিক্ষাব্যয়ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নাগালের বাইরে। যারা গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে এবং কোচিং করতে পারছে না, তারা ঝরে যায় অথবা সহপাঠীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ছে।
চিকিৎসাব্যবস্থায় কতটা নাজুক ও অরাজক পরিস্থিতি বিদ্যমান, তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। ডাক্তাররা যে যেমন পারছেন, আদায় করে চলেছেন ফি। সর্দি-কাশি নিয়ে ডাক্তারদের শরণাপন্ন হলে দুই-তিনটা টেস্ট ধরিয়ে দিয়ে বলে থাকেন, অমুক ল্যাব থেকে টেস্ট করিয়ে আনুন। রোগী এসব হুকুম মানতে বাধ্য। শোনা যায়, পরীক্ষা ফির একটা অংশ ডাক্তারদের বখরা দেয়া হয়। সরকার এসব শোনে, কিছু করে না। এখানেও WHO নির্ধারিত, রোগীর অধিকার ভূলুণ্ঠিত।
বাংলাদেশের ভোক্তাদের দুর্ভোগ-দুর্দশা উত্তরণে দেশে আইন বিদ্যমান। এসব আইন বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দায়িত্বশীল লোক থাকলেও আইনের প্রয়োগ নেই। জনগণের চলছে ভোগান্তি। সরকারি মহলের রয়েছে সদিচ্ছার অভাব।
ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষে সিআই-এর ডাইরেক্টর জেনারেল হেলেন এমসি কাম্ভ বলেছেন, ভোক্তাদের জন্য ভালো সুরক্ষা কেবল একটি আইনি বিষয় নয়। এটি ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা, সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের অঙ্গীকার এবং জীবন রক্ষার প্রতিশ্রুতিও।
জাতিসঙ্ঘস্বীকৃত ক্রেতা ও ভোক্তাদের আটটি অধিকার ও পাঁচটি দায়িত্ব সম্পর্কে আমরা সচেতন হলে ভোক্তাদের সমস্যা দূর হতে থাকবে। ভোক্তারা সরকারি মহলের শৈথিল্যের বিরুদ্ধে যত দ্রুত সোচ্চার ও সংগঠিত হতে শুরু করবেন, তত ভোক্তাস্বার্থ এবং সংশ্লিষ্ট আইন হালনাগাদকরণ ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।
লেখক : এমদাদ হোসেন মালেক, তারিখ: ১৫ মার্চ, ২০১৩, Daily Naya Diganto.
সাধারণ সম্পাদক, কনজুমারস ফোরাম (সিএফ)

Monday, March 4, 2013

ভেজাল খাবারের সুদরপসারী প্রতিক্রিয়া




ভেজাল খাবারের সুদরপসারী প্রতিক্রিয়া 
  োঃ মাহফুজুল হক ( কাজল ভাই)

ভেজাল শুধু ভেজাল, যেদিকে তাকান আর হাত বাড়ান ভেজাল যেন এখন আমাদের এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী।বর্তমানে ভেজাল খাদ্যদ্রব্যে  পণ্য বাজার ছেয়ে গেছে যেন ভেজাল খাবারই সাধারন ঘটনা। সাধারণ মানুষ খাচ্ছে ভেজাল খাদ্য আর বাড়ছে রোগ, থেমে নেই ভোগান্তি ভেজালকারী নিত্য নতুন কৌশল নিয়ে অতি আধুনিক পদ্ধতিতে ভেজাল ছড়িয়ে দিয়ে ভেজালকারীরা কোটিপতি হচ্ছে। আর বতমান ও ভবিষ্যত প্রজম্মর ভবিষ্যত অন্ধকার।

নানা রকম ফলের তৈরি জুস - টেলিভিশন খুললেই চোখে পড়ে নানা ধরনের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনআসল আমের মজা অমুক জুসেকিংবা অমুক ব্র্যান্ডের জুস খেলে মনের গোপন কথা বেরিয়ে যায় অজান্তে তবে এই ব্র্যান্ডিস জুস যারা তৈরি করছে তারাই বা কতটা ভেজালমুক্ত সেটাই সবার প্রশ্ন বাজারে অহরহ নামি-বেনামি বিভিন্ন ধরনের কথিত জুস পাওয়া যাচ্ছে অতি আকর্ষণীয়ভাবে প্যাকেটজাত করার কারণে সব বয়সী মানুষের কাছে এগুলোর কদর বেশ মহাখালীর স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি থেকে বেরিয়ে এসেছে ভেজাল জুস রহস্য এসব ফলের তৈরি জুসে নেই ফলের রসের ন্যূনতম উপাদান, তারপরও স্বাস্থকরী ভিটামিন জুস বলে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে ভেজালকারীরা টাকার পাহাড় গড়ছে নির্দিষ্ট রঙ, চিনি, প্রিজারভেটিভ, পানি আর ওই ফলের ফ্লেভার মিশিয়ে বোতলজাত করা হয় আমের জুস কিংবা অমুক অমুক জুস নামে ধরনের অস্বাস্থ্যকর জুস নামের ভোগ্যখাদ্যে যেসব কেমিক্যাল ব্যবহারিত হয় তা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর বলে চিকিৎকরা জানিয়েছেন

পাটালি গুড় মুড়ি তৈরিতে - পাটালি গুড় অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার এই মুখরোচক পাটালি গুড় তৈরি কাহিনী বেশ বিস্ময়কর, এর সঙ্গে মেশানো হয় অস্বাস্থ্যকর নানা উপাদান জানা গেছে, ৪০ কেজি পাটালি গুড় তৈরি করতে লাগে মাত্র কেজি আখের গুড়, কেজি চিটাগুড়, ১০ কেজি চিনি, আলুর মণ্ড, আটা, চুনের সঙ্গে সালফেট হাইড্রোজ কেমিক্যাল আবার মুড়ি তৈরিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল এবং একই ধরনের পদ্ধতি মুড়িতে টেক্সটাইলে ব্যবহারিত সাদা রঙ, ইউরিয়া মিশ্রিত পানি, সোডিয়াম, হাইড্রো সালফাইড কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে ফলে মুড়ির রঙ ধবধবে সাদা এবং মোটা হয়, তাতে ক্রেতারা বেশি আকৃষ্ট হয় তবে পাটালি গুড় বা মুড়িতে ব্যবহার্য এসব কেমিক্যাল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান
মিষ্টি, মধুতে - বর্তমানে যে মিষ্টি আমরা দোকান থেকে কিনে খাচ্ছি তার অধিকাংশই ভেজাল জানা যায়, যে কোন মিষ্টিতে ১০% মিল্ক ফ্যাট না থাকলে সেটি ভেজাল বলে বিবেচিত হয় স্টার্চ, পাউডার, কেমিক্যালের মিশ্রণে মিষ্টিকে আরও বেশি ফুলিয়ে এবং ভারি করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে সাধারণের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ঠকিয়ে অর্থ আয় করছে স্বার্থান্বেষী ব্যবসায়ীরা আবার মধুর ক্ষেত্রেও তাই, চিনি স্যাকারিন পানি রঙ কিংবা কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নামি-বেনামি বোতলজাত মধু এসব মধু আপাত দৃষ্টিতে বোঝার উপায় থাকে না সেটা কতটা ভেজাল বা কতটা খাঁটি বোতলের গায়ে ক্রেতা আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন লাগিয়ে হরহামেশায় এগুলো বিক্রি হচ্ছে
তরল দুধ কনডেন্স মিল্ক - দুধে মিশানো হচ্ছে নানা ক্যামিকেলসহ প্রানঘাতি ফরমালিন।এছাড়াও ছানার পানির সঙ্গে কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ঘন তরল দুধ সাদা পাউডার, বেকিং পাউডারের সঙ্গে কিছু কেমিক্যাল, ছানা মিশিয়ে তৈরি করা হয় বোতলজাত বাজারের সেরা তরল দুধ জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে আসা নমুনার পরীক্ষা থেকেই এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে আরও জানা যায়, ধরনের দুধের মধ্যে এমনও আছে যেগুলোর উপাদানে বিন্দু পরিমাণ দুধের গুণাগুণটুকু নেই, সম্পূর্ণভাবে সেগুলো ভেজাল স্টার্চ, মাস্টার ওয়েল, ক্যালসিয়াম বাই কার্বনেট, বেকিং পাউডার, দুধসদৃশ সুগন্ধী পানিতে মিশিয়ে অতি সহজে তৈরি করা হয় ভেজাল দুধ জানা যায়, প্রকৃত দুধে .% ফ্যাট থাকে, এছাড়াও আরও কিছু নির্দিষ্ট খাদ্যগুণাগুণ থাকতে হয়, কিন্তু বাজারের প্যাকেটজাত দুধে তার কোনটাই নেই বলে জানান স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের কর্মকর্তারা কনডেন্স মিল্ক ছাড়া দুধ চা হয় না, কিন্তু এই কনডেন্স মিল্কেও রয়েছে ভেজাল যদিও দুধ বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে, তবে এতে দুধের সামান্য পরিমাণও উপস্থিত থাকে না বলে স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরীক্ষায় বেরিয়ে এসেছে মূলত পামওয়েল, ভেজিটেবল ওয়েল এমনকি চাল কুমড়ার মতো উপাদান আর কিছু ক্ষতিকর কেমিক্যালের মিশ্রণে তৈরি করা হয় সুস্বাদু ঘন কনডেন্স মিল্ক  
ঘি তৈরিতে - দুধ ছাড়া যে ঘি তৈরি সম্ভব নয়, এটা সবাই জানে তবে এখন অসম্ভবও সম্ভব হচ্ছে অসাধু ভেজাল ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বর্তমান বাজারের অন্যতম উপাদেয় খাদ্যদ্রব্য ঘি তৈরি হচ্ছে দুধ ছাড়াই সয়াবিন বা পাম ওয়েল তেলে একটি বিশেষ ধরনের ফল মিশ্রিত করে আগুনে কিছুক্ষণ জ্বাল দিলেই ঘি সদৃশ রঙ চলে আসে ঘ্রাণ তৈরিতে ব্যবহার করা হয় আরও কিছু কেমিক্যাল খুবই সহজে এই সাধারণ তেলে কিছু রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বাজারের এক নম্বর খাঁটি ঘি যা খেয়ে মানব শরীরে দানা বাঁধছে নানা ধরনের মরণব্যাধি হাতে নাতে ধরা হচ্ছে এসব ভেজাল ব্যবসায়ীদের তবে আইনের ফাঁকফোকর আর জটিলতায় সহজে ছাড় পেয়ে যান ধরনের খোলস আবৃত ভেজালকারীরা

সরিষা, সয়াবিন তেল - দৈনন্দিন প্রয়োজনে সরিষার তেল, সয়াবিন কিংবা নারকেলের তেল অন্যতম খোলা কিংবা প্যাকেটজাত তেলের মধ্যে হরদাম চলছে ভেজাল প্রায় প্রতি দিনই এসব ভেজাল ভোগ্যপণ্য আসছে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে পরীক্ষার জন্য জানা গেছে, বর্তমান বাজারে ৯৫ শতাংশ সরিষার তেলই ভেজাল নিুমানের ভোজ্যতেল আর কেমিক্যালের মিশ্রণে তৈরি হচ্ছে নামি-বেনামি ব্র্যান্ডের সরিষার তেল এছাড়া ইঞ্জিন তেল, তিলের তেল, গর্জনের তেল কিংবা ব্যারনের তেল মিশ্রিত করে অসাধু ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরিষার তেলের ঝাঁজ বানানো হয় এক ধরনের কেমিক্যাল দিয়ে পামওয়েল বা সয়াবিন তেলের মধ্যে কয়েক ফোঁটা কেমিক্যাল মেশালেই হুবহু অরিজিনাল রঙের সরিষার তেল তৈরি হয়ে যায় আর এসব ভেজাল সরিষার তেলে বর্তমান বাজার ছেয়ে গেছে তবে সয়াবিন তেলও ভেজালের হাত থেকে মুক্ত নয় পামওয়েল, সুপার পামওয়েল যেগুলো আবার গ্রিজ তৈরিতে ব্যবহারিত হয় এমন খনিজ তেল, ডালডা আর ইঞ্জিন ওয়েল দিয়ে প্রস্তুতকৃত তেলই বাজারজাত করা হচ্ছে আর্কষণীয় ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল নামে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট জানিয়েছে ভোজ্যতেলের মাঝে ভেজালের পরিমাণ আরও বেশি থাকে বেড়েই চলেছে ভোগান্তি, সেইসঙ্গে বাড়ছে অপরাধীর সংখ্যা, তারপরও নেয়া হচ্ছে না কার্যকরী কোন পদক্ষেপ
হলুদ, মরিচ গুঁড়া, লবণে - রান্না-বান্নার ক্ষেত্রে হলুদ, মরিচ গুঁড়ার বিকল্প নেই গ্রাম বাংলায় এক সময় কাঁচা হলুদ আর কাঁচা মরিচ শুকিয়ে তা গুঁড়া করে তরকারিতে ব্যবহার করা হতো কিন্তু আধুনিক বিশ্বে তাল মিলিয়ে আর সময় বাঁচিয়ে দিতে বাজারে এসেছে প্যাকেটজাত হলুদ, মরিচের গুঁড়া তবে সময় বাঁচালেও এসব পণ্য জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে টেক্সটাইল রঙ, লৌহজ রঙ, আটা-ময়দা, ডালের গুঁড়া হলুদ কিংবা মরিচের সঙ্গে মিশিয়ে সেগুলো খোলা বাজার প্যাকেটজাত করা হচ্ছে এমনিতেই এসব মিশ্রণে যা দেয়া হচ্ছে, তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তবে তার চেয়ে ক্ষতিকর হচ্ছে ইটের গুঁড়া, কাঠের গুঁড়া লবণে মেশানো হচ্ছে বালু, আর তাতে ঠিকমতো আয়োডিনও মেশানো হচ্ছে না লবণে মেশানো এই বালি শরীরের জন্য খুবই ভয়ানক বলে তার বর্ণনা দেন চিকিৎসকরা
মাছ / মটরশুটি – পচনশীল মাছ বিষাক্ত ফরমালিনের প্রভাবে এখন পচেঁ না। মাছে দুধে ফরমালিন এখন স্বাভাবিক ঘটনা। রান্নার ক্ষেত্রে আরেকটি উপাদেয় খাবার হচ্ছে মটরশুটি আমাদের দেশীয় বাজারে যে মটরশুটি আমরা খাই, সেগুলো অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইনসহ ইউরোপ, আমেরিকায় ঘোড়া বা গবাদিপশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয় মটরশুটির মতো দেখতে এসব ফল দেশে এনে স্বার্থান্বেষী ব্যবসায়ীরা রঙ আর কেমিক্যাল মিশিয়ে মটরশুটি নামে বাজারে ছাড়ছে, যা ঘোরতর অপরাধ
অন্যান্য - মুরগীর খাবারে বিষাক্ত ট্যানারির বজ্য ভয়ঙ্কর বিষাক্ত রাসায়নিক যুক্ত চামড়ার ভুসি ব্যবহার করা যচ্ছে যাতে সবধরনের দেশী মুরগী/ফারমের মাংস ও ডিম বিষাক্ত হয়ে পড়ছে । ইদানিং শুনা যাচ্ছে জনগনকে বিষাক্ত ডিমও নাকি খাওনো হচ্ছে। 


চিকিৎসক, পুষ্টিবিজ্ঞানীরা যা বললেন
এসব ভেজাল ভোগ্যপণ্য গ্রহণের ফলে নানা দুরারোগ্য ব্যাধিতে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিটি ভেজাল খাবার গ্রহণের ফলে ছেলে-বুড়ো সবাই তার ভুক্তভোগী হচ্ছে বাচ্চাদের জন্য এসব ভেজাল খাবার মারাÍ ক্ষতিকর শিশুর মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ক্ষেত্রে এসব ভেজাল পণ্য প্রধান প্রতিবন্ধক বলে চিকিৎসকরা জানান যে খাবার আমরা খাই সেটা পেট থেকে লিভার হয়ে কিডনিতে প্রবেশ করে এবং তা শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে ফলে ভেজাল খাবারের কারণে শরীরে লিভার ক্যান্সার, স্টমাক ক্যান্সার, ফুসফুস, কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গগুলো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুদীপ রঞ্জন দেব বলেন, ‘আমাদের মিডিয়ায় খুবই আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভেজাল জুস, দুধ, ঘিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য উপস্থাপন করা হয় কিন্তু সাধারণ মানুষ তো জানে না এসব ভোগ্যপণ্য আসলে কতটা অস্বাস্থ্যকর এসব ভেজালপণ্য শিশুদের জন্য খুবই ক্ষতিকর বাচ্চার বুদ্ধি বিকাশ মানসিক বিকাশের জন্য ভেজাল খাবার অন্যতম দায়ীঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক খোরশেদুল জাহিদ বলেনকেমিক্যাল মিশ্রিত খাবার খেলে মানবদেহে মারাত্বক রোগ হতে পারে, যা শরীরে বিষের মতো কাজ করে এজন্য  ফল, সবজিসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্য কেনার সময় এসব বিষয়ের প্রতি সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে
প্রতিকার -  ভেজালকারী এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে না কোন কার্যকরী পদক্ষেপমাঝে মাঝে লোক দেখানো যেসব পদক্ষেপ না হয় তা খুবেই সামান্য, যা সমাজের সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশার সৃষ্টি করছে  
 আমাদের দাবী যে কোন ভেজাল এর বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোতর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে । ভেজালকারীর নিঃসন্দেহে খুনী। এসব নীরব খুনীরা সমাজকে  বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে চলবে, আর আমরা নীরবে কতকাল সহ্য করব।সরকার সহ সবার প্রতি অনুরোধ আমরা ভেজালের বিরুদ্ধে ব্যপক জনসচেতনতা গড়ে তুলি এবং সরকার বাধ্য করি কাযকর আইন প্রনয়ন ও ব্যবস্থা নেয়া। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করূন।