বেশির ভাগ ক্ষেত্রে টেন্ডার না খুলেই টেবিলে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। যে কারণে কাঙিক্ষত উন্নয়ন হয়নি। ঢাকা শহরে কয়েকটি ফ্লাইওভার উন্নয়নের একমাত্র দৃষ্টান্ত হয় কিভাবে? ব্যাংকের টাকা লুটের যে নজির স্থাপন করা হয়েছে তা কি আগে এভাবে কখনও হয়েছে? বিদ্যুতের উন্নতি কে না চায়। তাই বলে জনগণের ওপর অযৌক্তিক করের বোঝা বাড়িয়ে স্বস্তি নিশ্চয়ই কেউ চান না। এভাবে ঢালাও ইনডেমনিটি দেয়ার পরিণতি পাকিস্তানের দিকে তাকালেই জানা যায়। ‘বদল চাই’ ছিল নজরকাড়া স্লোগান। বাস্তবে দেখা গেল বদল নয়, বদলা চাই। ক্ষমতায় এসেই খালেদাকে বাড়িছাড়া করতে হবে। নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ইউনূসকে এক হাত নিতে হবে। জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পাল্টাতে হবে- এটা যেন ছিল প্রথম অগ্রাধিকার। বিরোধী নেতা-কর্মীদের ডাণ্ডাবেরি পরানোর মধ্যে কি আনন্দ ছিল? একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের অফিসে ঢুকে পুলিশ যখন শাবল দিয়ে তালা ভাঙে আর সে দৃশ্য যখন দেশবাসী টিভির বদৌলতে সরাসরি দেখতে পান তখন কি প্রতিক্রিয়া হয় বা হবে তা তো শাসক দল ভেবে দেখেনি। ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম আওয়ামী লীগের সাড়ে চার বছরের শাসনকে মাত্র তিন শব্দে বর্ণনা করেছেন- দাম্ভিকতা, খামখেয়াল আর প্রতিহিংসা। বাস্তব অবস্থা তো তাই। যেভাবে বিরোধী মতকে দমন করার চেষ্টা হয়েছে তাতে সচেতন নাগরিকদের সামনে বিকল্প কি? বর্তমানকে অস্বীকার করে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা যায় না। শুধু স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হওয়া যায়। তাছাড়া, শাসক যদি ন্যায়সঙ্গত অধিকারকে মান্যতা না দেয়, উল্টো যদি নির্যাতনের পথ বেছে নেয় তখন বিপদ অনিবার্য।
অমিত রহমান: শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৩ Daily Manbab Jameen











